সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫
বিভিন্ন ধরণের খেলাধুলা, অতিথিদের শুভেচ্ছা বক্তৃতা, সঙ্গীতানুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ,র্যাফেল ড্র আর বাহারী বাঙ্গালী খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হল কুমিল্লা সোসাইটি অব ইউএসএ ইনক’র বার্ষিক বনভোজন। নিউইয়র্কের বেলমন্ট লেক স্টেট পার্ক এ আয়োজিত বনভোজনস্থল ছিল যেন এক খন্ড কুমিল্লা।
ছোট বড় সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে বনভোজন প্রাঙ্গণ ছিল উৎসবমুখর। বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক মানুষের (কুমিল্লাবাসীর) অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মত। প্রিয়জনদের কাছে পেয়ে সবার চোখে ছিল আনন্দের ঝিলিক।
সকালে নাস্তা পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বনভোজনের কার্যক্রম।এ সময় সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বনভোজনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করার আহ্বান জানান কুমিল্লা সোসাইটি অব ইউএস ইনক’র সভাপতি মো: আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো: নজরুল ইসলাম। তারা বলেন, প্রবাসের ব্যস্ততম জীবনে এলাকার মানুষকে ন্যূনতম আনন্দ দিতে পারলেই তারা নিজেদের ধন্য মনে করবেন। তারপর সবাই চলে যান খেলার মাঠে। শুরু হয় সব বয়সী বাচ্চাদের দৌড় প্রতিযোগিতা। ছিল বাস্কেট বলের আয়োজন। এ সময় একদল স্বেচ্ছাসেবী তরমুজ এবং আম ভর্তা পরিবেশন করেন হৃদয়ের ভালোবাসা দিয়ে। বিশেষ করে আম ভর্তা যেন একটু বেশিই প্রিয় হয়ে ওঠে সবার মাঝে। তবে এই অনাবিল আনন্দের মাঝে বাঁধ সাধে প্রকৃতি। শুরু হয় বৃষ্টি। সবাই এসে প্যাভিলিয়নে বসে পড়েন।এ সময় প্যাভিলিয়নে তিল ধারণের জায়গা ছিলনা। ব্যাপারটি যেন ছিল-আমরা কুমিল্লাবাসী একসঙ্গে অনেক শক্তিশালী।
তবে বৃষ্টি থামার সঙ্গে সঙ্গে আবার খেলা শুরু হয়।পুরুষরা অংশ নেন বল ড্রপে। সব বয়সী ছেলেদের অংশগ্রহণে খেলাটি ছিল বেশ উপভোগ্য, প্রাণবন্ত। এরপর হাঁড়ি ভাঙ্গায় অংশ নেন মেয়েরা। সুদুর প্রবাসে বাংলাদেশের এই জনপ্রিয় খেলাটি যখন খেলিছিলেন সবাই তখন দেশের কথাই মনে পড়ছিল সবার। হাঁড়ি ভাঙা প্রতিযোগিতার পর বাহারী বাঙ্গালী নানা পদের খাবারে-মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়ণ করা কুমিল্লা জেলাবাসীসহ উপস্থিত সবাইকে।
আয়োজনের বিভিন্ন ইভেন্ট ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত হলেও বনভোজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় মধ্যাহ্ন ভোজের পর। উদ্বোধন করেন কুইন্স এডাল্ট ডে কেয়ার এবং মার্কস হোমকেয়ার এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও প্রকৌশলী মাহফুজুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বনভোজনের গেস্ট অব অনার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি লিডার কাজী এনামুল হক, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাবেক সভাপতি মো: ফিরোজুল ইসলাম পাটোয়ারী, ঢাকা জেলা এসোসিয়েশনের সভাপতি দুলাল বেহেদু, বনভোজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক কাজী তোফায়েল আহমেদ, সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি, বনভোজনের আহবায়ক সাইদুল ইসলাম রিয়াদ, প্রধান সমন্বয়কারী ইউনুস সরকার, সদস্য সচিব রেজাউল করিম নোমানসহ কুমিল্লা সোসাইটি অব ইউএসএ ইনক’র কার্যকরী পরিষদের সদস্যসহ সকল অতিথিবৃন্দ।
দিনব্যাপী বনভোজনের নানা আয়োজনের ফাঁকে ফাঁকে শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, এটর্নি মঈন চৌধুরী, বিভিন্ন জেলা সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ, কমিউনিটি নেতা ফখরুল ইসলাম দেলোয়ারসহ গণ্যমাণ্য ব্যক্তিগণ।
পড়ন্ত বিকেলে ছিল মেয়েদের পিলো পাসিং। চারদিকে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে অংশ নেন সব বয়সী মেয়েরা। আর এ দৃশ্যটি ছিল খুবই দৃষ্টিনন্দন। পিলো পাসিং শেষে শুরু হয় সঙ্গীতানুষ্ঠান। ক্লোজআপ তারকা শশীর গানে নেচে গেয়ে উল্লাস করেন বনভোজনে অংশ নেয়া সকলে। সঙ্গে পরিবেশন করা হয় ঝালমুড়ি।
সবশেষে ছিল বনভোজনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট র্যাফেল ড্র। স্বর্ণের চেইন, এক হাজার ডলার ক্যাশসহ ২০টি ক্যাটাগরীতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন কুমিল্লা সোসাইটি অব ইউএসএ ইনক’র নেতৃবৃন্দ। আর এর সঙ্গে ভাঙ্গে কুমিল্লাবাসীর দিনব্যাপী মিলনমেলা।
শাহ ফারুক রহমান
এডিটর, বিডিইয়র্ক, নিউইয়র্ক।