শনিবার, ০২ আগস্ট, ২০২৫
একজন মানুষের প্রতি এভাবে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানানো যায় সেটাই দেখলো নিউইয়র্কবাসী। নিউইয়র্ক স্টেট গভর্নর, সিটি মেয়র, সিটি পুলিশ প্রধান থেকে শুরু করে কয়েক হাজার পুলিশ অফিসার,হাজার হাজার বাংলাদেশিসহ ভিন্ন কমিউনিটির সব শ্রেণী-পেশার মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হন বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত পুলিশ অফিসার দিদারুল ইসলাম।
আগেই জানানো হয়েছিল নিহত দিদারুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা আর জানায়ার সময় সূচি। আর তাই সকাল থেকেই জড়ো হতে থাকে হাজারো মানুষ। আমেরিকার নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসা পুলিশ সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু এবং সাধারণ মানুষ—সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন বীরকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। এ সময় ব্রন্কস’র পুরো পার্কচেস্টার এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। এ সময় অনেক বাংলাদেশিকে চোখ মুছতে দেখা যায়।
জানাজার নামাজের আগে বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক স্টেটের গভর্নর ক্যাথি হকুল, সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস, পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ, প্রিসিনকটের কমান্ডিং অফিসার আশরাফ জাহাঙ্গীরসহ অন্যান্য প্রশাসনিক ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। তাঁদের প্রত্যেকের কণ্ঠেই ছিল দিদারুলের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতা। বারবার উচ্চারিত হয়েছে বাংলাদেশের নাম, স্মরণ করা হয়েছে দিদারুলের উৎস, তাঁর শিকড়। বক্তারা দিদারুলের স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নাম বলে তাদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছিলেন। বিশেষে করে দিদারুলের স্ত্রী, সন্তান, অনাগত সন্তান আর বাবা মায়ের কথা ওঠলে সেখানে উপস্থিত অনেকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
সোমবার বিকেল থেকে নিউইয়র্ক পুলিশের বাংলাদেশি অফিসারদের সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) -র কর্মকর্তারা দিনরাত কাজ করেছেন তাদের সহকর্মীর দাফন না হওয়া পর্যন্ত।বাপার মিডিয়া লিয়াজো অফিসার জামিল সারওয়ার, প্রেসিডেন্ট এরশাদ সিদ্দিকী, সেক্রেটারি রাশেদ মালেক, ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রিন্স আলম এবং ইভেন্ট কোঅর্ডিনেটর শেখ মুরাদ আহমেদ সার্বক্ষণিক সংবাদমাধ্যম, নগর কর্তৃপক্ষ ও দিদারুলের পরিবারের সাথে সংযোগ রক্ষা করেছেন। তারা জানিয়েছেন, নিহত দিদারুল ইসলামকে নিউইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে মরণোত্তর ফার্স্ট গ্রেড ডিটেকটিভ হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।শ্রদ্ধা নিবেদন আর বক্তৃতা শেষে শুরু হয় জানাযা। এতে ইমামতি করেন পার্কচেস্টার জামে মসজিদের ইমাম ডক্টর জাকির আহমেদ।
জানাযার পর যখন দিদারুলের মরদেহ আনা হয়, তখন হঠাৎ করেই আকাশ ভেঙে নামে বৃষ্টি। যেন প্রকৃতিও কাঁদছিল একজন সৎ, নিষ্ঠাবান পুলিশ অফিসারের বিদায়ে। পুলিশের গাড়ির বহর, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, সাধারণ মানুষ—সবাই মিলিত হন দিদারুলের শেষ যাত্রায়। ব্রংকস থেকে নিউ জার্সির টোটোয়া অব্দি চলে এই অন্তিম শোভাযাত্রা। এক নিরব প্রস্থানের গভীরতা ছুঁয়ে যায় সবাইকে।
দাফন হয় নিউ জার্সির লোরেল গ্রোভ কবরস্থানে। সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতায় উচ্চারিত হয়—"আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু"। পুলিশ সদস্যরা শেষ স্যালুট জানান তাঁদের এক ঝরে যাওয়া কমরেডকে। কবরস্থানের পতাকা অর্ধনমিত হয়ে যেন বলছিল—বিদায় বীর।
গত সোমবার সন্ধ্যায় ম্যানহাটনের পার্ক অ্যাভিনিউয়ের সেই ভয়াবহ হামলায় বন্দুকধারীর প্রথম শিকার হন অফিসার দিদারুল ইসলাম। তিনি বিভাগ-অনুমোদিত একটি প্রাইভেট নিরাপত্তা দায়িত্বে ছিলেন, ইউনিফর্ম পরে কাজ করছিলেন—ঠিক তখনই ঘটে নারকীয় হামলা। এই নেক্কারজনক হামলায় হামলায় মারা যান আরও তিনজন সাধারণ মানুষ।
বিডিইয়র্ক ডেস্ক, নিউইয়র্ক।