বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
ইরানে সরকার বিরোধী তুঙ্গে। আবার সরকারের পক্ষেও রাস্তায় নেমেছেন লাখো মানুষ।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এ কথা বলেন ট্রাম্প। এমন সময় তিনি এমন আহ্বান জানালেন, যখন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ স্তিমিত হয়ে যাওয়ার খবর আসছে। গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই তেহরানকে নানা হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানের দেশপ্রেমিকেরা, আপনারা বিক্ষোভ চালিয়ে যান। আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর দখল নেন। হত্যাকারী ও নিপীড়নকারীদের নাম মনে রাখুন। তাদের বড় মূল্য দিতে হবে। বিক্ষোভকারীদের ওপর হত্যাকাণ্ড না থামা পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। সাহায্য আসছে।’
এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে ইরানের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য আজ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। এর আগে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, এই শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
ইরানে বিক্ষোভ অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হলেও পরে তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। বিক্ষোভ থেকে সরকার পতনের ডাকও দেওয়া হয়। বিক্ষোভ চরমে উঠলে ৯ জানুয়ারি রাত থেকে ইন্টারনেট বন্ধ করে ব্যাপক দমন–পীড়ন শুরু করে ইরান সরকার। ইরানের এক সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। মৃতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা ১০৯ জন বলে জানিয়েছে ইরান সরকার।
ইরানে প্রায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভ হয় নানা ইস্যূতে। সরকার সেগুলো শক্ত হাতেই দমন করেছে। তবে এবারের বিক্ষোভ একটু ভিন্নতর। দেশের তরুণরা রাস্তায় নেমে এসেছে। সেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিক্ষোভকারীদের সরাসরি ইন্ধন যোগাচ্ছে। বিশেষ করে সামরিক হামলাসহ সব ধরণের প্রস্তুতির কথা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরাসরি বলা হয়েছে। অন্যদিকে ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের বিদেশী মদতপুষ্ট বলে কঠোর অভিযানে নেমেছে। বিশেষ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি বলেছেন, আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। এমতাবস্থায় পরিস্থিতি কোন দিকে যায় সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বিডিইয়র্ক ডেস্ক, নিউইয়র্ক।