মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এবারের জাতীয় নির্বাচনে তথাকথিত ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কা তিনি দেখছেন না। চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স ও কাউন্টার ব্যালেন্স সঠিকভাবে কার্যকর থাকায় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে তাঁর আশা।
নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দলীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে এখনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। তবে বিগত ১৫ বছরের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিজ্ঞতার কারণে মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ স্বাভাবিক। ‘অনেকেই ভাবতেই পারেন না যে ভালো নির্বাচন হতে পারে। তবে সার্বিকভাবে আমার মনে হচ্ছে, এবারের নির্বাচন ভালো হবে এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারবে না,’ বলেন তিনি। মাঠ প্রশাসন জামায়াতে ইসলামীর সাজানো—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বিষয়টি গণমাধ্যমে এসেছে ঠিকই, তবে তিনি সেটিকে অতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তাঁর ভাষায়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করবেন বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। রাজনৈতিক মতাদর্শ কারও থাকতে পারে, কিন্তু দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবাইকে নিয়ম মেনেই কাজ করতে হবে। তিনি আবারও বলেন, এবারের নির্বাচনে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স থাকার কারণে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কা দেখছেন না।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ছিল, বিশেষ করে গণমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছিল। প্রথম দিকে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও এখন পরিস্থিতি অনেকটাই সংযত ও অনুকূল। তাঁর মতে, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ইতিবাচক। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঠাকুরগাঁও সফর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সফর এলাকার রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও এগিয়ে নিয়েছে।
নির্বাচন নিয়ে দলের প্রত্যাশা সম্পর্কে তিনি বলেন, গত ১৫–১৬ বছর ধরে বিএনপি গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। এই নির্বাচনকে তিনি ‘গেটওয়ে’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই গেটওয়ে পার হতে পারলে দেশ আবার গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরবে এবং রাষ্ট্র ও সমাজে গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ তৈরি হবে। এজন্য ব্যক্তিগতভাবে এই নির্বাচনকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, বিএনপি তা স্বাগত জানাবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি বরাবরই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বিএনপি মাত্র ৩০টি আসন পেয়েও সংসদে যোগ দিয়েছিল।
১১ দলীয় জোট ও জামায়াতের প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন দল আত্মপ্রকাশ করলে তাদের আওয়াজ তুলনামূলক বেশি হয়। জামায়াতকে কৌশলী দল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, তবে এসব খুব একটা কার্যকর হয় না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো আশঙ্কা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আশঙ্কা থাকতেই পারে, কারণ বাংলাদেশ রাতারাতি স্বর্গে পরিণত হবে না। তবে যারা ইতিবাচক রাজনীতি করছেন, তারা সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। ‘ভোটকেন্দ্রে যান, যাকে খুশি তাকে ভোট দিন—এটা আপনার অধিকার,’ বলেন তিনি। প্রশাসনও একই বার্তা দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচন নিয়ে বিএনপি চাপে আছে কি না—এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি প্রতিটি নির্বাচনকেই গুরুত্ব সহকারে নেয়। প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি আবারও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপি ল্যান্ডস্লাইড জয় পাবে।
বিডিইয়র্ক ডেস্ক, ঢাকা।