রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের নিউইয়র্ক সফর সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত ব্যস্ত এই সফরে জাতিসংঘ কেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি বিশ্বের ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন ব্রিফিংকালে সফরের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, চার দিনের এ সফরে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা সর্বমোট প্রায় ৮০টি বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচির মধ্যে পাঁচটিতে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য প্রদান করেছেন। এর বাইরে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনার, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, গেটস ফাউন্ডেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের (IPI) প্রেসিডেন্টসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল অর্থনীতি ও বিনিয়োগ সম্পর্কিত তৎপরতা। প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে জেপি মরগান চেজ আয়োজিত একটি প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় খাতে বৈশ্বিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই দিনে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত মিত্র তিন দেশের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিনি কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
এসব বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা, নতুন জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, খনিজ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি উঠে আসে। বৈঠক শেষে তিন দেশের নেতৃবৃন্দই প্রধানমন্ত্রীকে নিজ নিজ দেশ সফরের আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান। আন্তর্জাতিক শান্তি, মানবাধিকার ও বৈশ্বিক ইস্যুতেও বাংলাদেশ জোরালো ভূমিকা পালন করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হয়। অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে আসাকে স্বাগত জানানো হয় এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান প্রশংসিত হয়।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের উদ্যোগে 'রোহিঙ্গা সংকট' এবং 'মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি' বিষয়ক দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, জাস্ট ট্রানজিশন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো বৈশ্বিক সংকট নিয়ে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করে বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমানও সফরে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে চারটিতে বক্তব্য প্রদান করেন। বিশেষ করে 'জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডারস' এবং 'ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগ'-এ তাঁর দেওয়া বক্তব্য উপস্থিত বৈশ্বিক প্রতিনিধিদের দ্বারা ভূয়সী প্রশংসা পায়।
সংবাদ ব্রিফিংয়ের শেষভাগে মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর বিশ্বমঞ্চে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকারের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবতা, গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপস্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানসহ প্রেস উইং ও বাংলাদেশ মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।