সোমবার, ০১ মার্চ, ২০২১
যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা গঠনমুলক ও ফলপ্রসূ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ৫ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্র সফরে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বৈঠক করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন ব্লিন্কেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ু বিষয়ক উপদেষ্টা জন কেরিসহ যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ও কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে।
জন ব্লিন্কেনের সঙ্গে আলোচনাকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রী দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয় ছাড়াও রোহিঙ্গা ইস্যূতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহবান জানান।
তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে জানান, নতুন করে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসার পর একজনকে ও ফেরত নেয়নি মিয়ানমার সরকার। যদিও বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রী তাঁকে জানিয়েছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী গণহত্যা করেছে অথচ যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলো বিশেষ করে জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের সাথে ব্যবসায়্ক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তারা দিন দিন সেখানে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলছে। এগুলো দেশগুলোর দ্বৈত নীতি বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুল মোমেন। তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে আরও বেশি চাপ প্রয়োগ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহবান জানান।
তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন ব্লিংকেনকে বঙ্গবন্ধুর খুনী রাশেদ চৌধুরী কে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে পুনরায় অনুরোধ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ু বিষয়ক উপদেষ্টা জন কেরি জলবায়ু ইস্যুতে দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী। তিনি বলেন, জন কেরি তাঁকে জানিয়েছেন, জলবায়ু সংক্রান্ত তহবিলে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করার চেষ্টা করা হবে। সেই অর্থ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলেছেন জো বাইডেনের উপদেষ্টা জন কেরি।
জ্বালানি বিষয়ে টেক্সাসের সিনেটরের সঙ্গেও কথা বলেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী। তিনি জ্বালানী, ফার্মাসিউটিক্যাল, ইকোনমিক জোন, হাইটেক পার্কে বিনিয়োগের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আহবান জানিয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুল মোমেন বাংলাদেশ ককাসকে কার্যকর করার জন্য নিউইয়র্কের কুইন্স থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস ওম্যান গ্রেস মেং এর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি গ্রেস মেংকে বলেন, অতীতে এটি কার্যকর ছিল এবং তাতে উভয় দেশই লাভবান হয়েছে।
সব মিলিয়ে করোনাকালে তাঁর সফর খুবই অর্থবহ হয়েছে বলে মনে করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
শাহ ফারুক রহমান