রবিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৪
অধিনায়ক শান্ত’র অধিনায়কোচিত ইনিংস আর নাসুমের অলরাউন্ড পারফর্মেন্সের উপর ভর করে ৬৮ রানে ২য় ওয়ানডেতে জিতেছে বাংলাদেশ। এর ফলে টাইগার শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
শারজায় সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টসে জিতে আগে ব্যাটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে শান্ত’র ৭৬ রানের ইনিংসে ৭ উইকেটে ২৫২ রানের সংগ্রহ গড়ে টিম টাইগার্স। জবাবে নেমে ৪৩.৩ ওভারে ১৮৪ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান।
ব্যাট হাতে ২৪ বলে ২৫ রানের ইনিংসের পর বল হাতে নাসুম নিয়েছেন ৩ উইকেট। ৮.৩ ওভার বল করে ১ মেডেন আদায় করে রান খরচ করেছেন ২৮। ফিরিয়েছেন সেদিকুল্লাহ অটল, আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও আল্লাহ মোহাম্মদ গজনাফরকে।
রানতাড়ায় নেমে ১৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় আফগানিস্তান। রহমানুল্লাহ গুরবাজকে (২) ফেরান তাসকিন। দ্বিতীয় উইকেটে ৫২ রানের জুটি গড়েন অটল ও রহমত শাহ। ১৭তম ওভারে প্রথমবার বলে আসেন নাসুম আহমেদ। এসেই অটলকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন। অটলের সুইপ স্কয়ার লেগে লাফিয়ে উঠে তালুবন্দি করেন। ৭০ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় আফগানিস্তান। পাঁচটি চারে ৫১ বলে ৩৯ রান করেন।
তৃতীয় উইকেট হাশমতউল্লাহ শাহিদীকে নিয়ে ৪৮ রানের জুটি গড়েন রহমত শাহ। নিজের ফিফটিও পূর্ণ করে নেন। জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজ শাহিদীকে ফিরিয়ে। ২৯তম ওভারের শেষ বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ফাইন লেগে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়েন শরিফুলের হাতে। ৪০ বলে ১৭ রান করেন।
৩০তম ওভারে জোড়া শিকারের দেখা পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় বলে নাসুমের ডেলিভারি বুঝে উঠতে পারেননি আজমতউল্লাহ ওমরজাই। রানের খাতা খোলার আগে বোল্ড হয়ে ফিরে যান। পঞ্চম বলে গুলবাদিন নাইবের ভুলে সেট ব্যাটার রহমত শাহ’র উইকেট হারায় আফগানিস্তান। নাসুমের ডেলিভারিতে এক্সট্রা কভারে ঠেলে দিয়ে রান নিতে আমন্ত্রণ জানান রহমতকে। রহমত সাড়া দিলে ফিরে যান নাইব। রিশাদ বল কুড়ে নিয়ে নিয়ে অনিককে দেন। বল দ্রুতই বোলিং প্রান্তে পাঠান অনিক। নাসুম স্টাম্প ভেঙে দেন। ৭৬ বলে ৫২ রান করে ফিরে যান রহমত।
১১৯ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর নবী ও গুলবাদিনের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় আফগানিস্তান। তাদের ৪৪ রানের জুটিতে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। ৩৭ ওভারে গুলবাদিনকে আউট করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান শরিফুল। টাইগার পেসারের আউটসাইড অফ থাকা ডেলিভারি ড্রাইভ করেন গুলবাদিন। কভারে থাকা হৃদয় দুর্দান্ত ক্যাচ নেন। ২৫ বলে ২৬ রান করেন গুলবাদিন।
পরের ওভারে বাংলাদেশকে সপ্তম শিকার এনে দেন মিরাজ। ২১ বলে ১৭ রান করা নবীকে বোল্ড করে ফেরান। ১৬৫ রানে সপ্তম উইকেট হারাল আফগানিস্তান।
৪২তম ওভারের প্রথম বলে নাঙ্গেলিয়া খারোটেকে ফেরান মিরাজ। আফগান ব্যাটার এগিয়ে এসে খেলতে চেয়েছিলেন। বল মিস করেন। উইকেটরক্ষক অনিক ভুল করেননি। স্টাম্প ভেঙে দেন। ১২ বলে ৪ রান করেন। পরের ওভারেই রাশিদ খানকে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মোস্তাফিজ। ১৬ বলে ১৪ রান করেন। ৪৩.৩ ওভারে গজনাফরকে বোল্ড করে আফগান ইনিংসের ইতি টানেন নাসুম।
নাসুম তিনটি উইকেট নেন। মোস্তাফিজ ও মিরাজ নেন দুটি করে, এছাড়া শরিফুল ও তাসকিন একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে ব্যাটে নেমে বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দেন তানজিদ তামিম ও সৌম্য সরকার। তানজিদের শুরুটা দারুণ হলেও লম্বা হয়নি ইনিংস। ৩.২ ওভারে ২৮ রানে বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারায়। তিন চার ও এক ছক্কায় ১৭ বলে ২২ রান করে ফিরে যান তানজিদ।
দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে টেনে নেন সৌম্য সরকার। ৯৩ বলে ৭১ রানের জুটি গড়েন দুজনে। ১৯তম ওভারের পঞ্চম বলে রশিদ খানের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ফিরে যান। দুটি করে চার ও ছক্কায় ৪৯ বলে ৩৫ রান করেন। এরপর শান্ত ও মিরাজ টেনে নেন দলকে।
২৮তম ওভারের তৃতীয় বলে মোহাম্মদ নবীর ফুলার লেংথের ডেলিভারিতে মিড অনে আলতো করে ড্রাইভ করেন শান্ত। সিঙ্গেল নিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন। ৭৫ বলে ক্যারিয়ারের নবম ফিফটি পূর্ণ করেন। ছিল চারটি চার ও একটি ছক্কার মার।
৩৩তম ওভারে তৃতীয় উইকট হারায় বাংলাদেশ। রশিদ খানের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান মিরাজ। ৩৩ বলে ২২ রান করেন। তাওহীদ হৃদয় এই ম্যাচেও ভালো করতে পারেননি। ৩৮.১ ওভারে দলীয় ১৭৪ রানে নাঙ্গেলিয়া খারোটের বলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে উড়িয়ে মারেন হৃদয়। টাইমিং ঠিকমত না হওয়ায় সেদিকুল্লাহ অটলের হাতে ধরা পড়েন বাউন্ডারি লাইনে।
৪০.২ ওভারে দলীয় ১৮৩ রানে শান্তকে ফেরান খারোটে। বড় শট খেলতে গিয়ে লং অফে মোহাম্মদ নবীর তালুবন্দি হন। ১১৯ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলেন, ছিল ছয়টি চার ও একটি ছক্কার মার। একই ওভারে ঞ্চম বলে সাজঘরের পথ ধরেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন, ৯ বলে ৩ রান করেন।
১৮৪ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর সপ্তম উইকেটে নাসুম আহমেদকে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়েন অভিষিক্ত জাকের আলি অনিক। ৪৭.৪ ওভারে নাসুম ফিরে যান বোল্ড হয়ে। তার আগে একটি চার ও দুটি ছক্কায় ২৪ বলে ২৫ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন।
পরে তাসকিনকে নিয়ে ইনিংস শেষ করেন জাকের। একটি চার ও তিন ছক্কায় ২৭ বলে ৩৭ রান করেন অভিষিক্ত উইকেটরক্ষক ব্যাটার। তাসকিন অপরাজিত থাকেন ২৫২ রানে।
আফগানিস্তানের হয়ে নাঙ্গেলিয়া খারোটে দারুণ করেন। ৮ ওভারে ২৮ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। রাশিদ খান ও আল্লাহ মোহাম্মদ গজনাফর নেন দুটি করে উইকেট।
বাংলাদেশ ২য় ওয়ানডে জেতার ফলে তৃতীয় ওয়ানডে এখন সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে পরিণত হয়েছে। আগামী ১১ নভেম্বর ৩য় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান মুখোমুখি হবে।
বিডিইয়র্ক ডেস্ক, নিউইয়র্ক।