বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
লংকান সমর্থকদের সঙ্গে যোগ হয়েছিল ১৮ কোটি বাংলাদেশি সমর্থকদের সমর্থন। আর সেজন্যই হয়ত তীরে এসে তরী ডুবল আফগানদের।
মোহাম্মদ নবীর শেষের ঝড়ে ঢেকে গেল শুরুর ব্যর্থতা। তার চার-ছক্কার বৃষ্টিতে শক্ত পুঁজি পায় আফগানিস্তান। আবুধাবিতে শ্রীলঙ্কার জন্য এই লক্ষ্য অতটাও সহজ ছিল না। তবে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সেই লক্ষ্যকে হাতের নাগালে নিয়ে আসে লঙ্কানরা। নবীর ঝড়ের বিপরীতে দায়িত্বশীল ব্যাটিং উপহার দেন কুশল মেন্ডিস। এতে আফগানদের হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপ থেকে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে সুপার ফোর নিশ্চিত করল শ্রীলঙ্কা ।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রানের পুঁজি দাঁড় করিয়েছে আফগানিস্তান। জবাব দিতে নেমে ১৮.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা।
রান তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করে শ্রীলঙ্কা। যদিও পাওয়ার-প্লেতে দুই উইকেট হারায় লঙ্কানরা। ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ৫ বলে ৬ আর কামিল মিশারা ১০ বলে ৪ রান করে ফেরেন। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে আফগান বোলারদের শাসন করেন কুশল মেন্ডিস। তার সঙ্গে যোগ দেন কুশাল পেরেরা। দুজন মিলে তৃতীয় উইকেটে ৪৫ রান যোগ করেন। কুশল পেরেরা ২০ বলে ২৮ রান করে ফিরলে ভাঙ্গে সেই জুটি।
এরপর চারিথ আসালাঙ্কা ১২ বলে ১৭ রানে ফিরলেও কামিন্দু মেন্ডিসকে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যায় কুশল মেন্ডিস। ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ৫২ বলে ৭৪ রানে অপরাজিত থাকেন কুশল মেন্ডিস। তার ইনিসংসটি সাজানো ছিল ১০ চারে। আর কামিন্দু মেন্ডিস অপরাজিত থাকেন ১৩ বলে ২৬ রানে।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে আফগানিস্তান। প্রথম দুই ওভারেই আসে ২৬ রান। কিন্তু সেই ধারা বজায় রাখতে পারেনি তারা। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই আফগান শিবিরে আঘাত হানেন নুয়ান থুসারা। ফেরান ৮ বলে ১৪ রান করা রহমানুল্লাহ গুরবাজকে।
সে-ই শুরু। এরপর থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। কোমর সোজা করে দাঁড়াতে দেননি আফগান ব্যাটারদের। টপঅর্ডারের তিন ব্যাটারকেই ফিরিয়েছেন থুসারা।
চার নম্বরে নামা ইব্রাহীম জাদরান কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন। তবে তার ইনিংসটা ছিল ধীরগতির। ২৭ বলে ২৪ রান করে ফেরেন তিনি। এতে ১০০ রানের আগেই অলআউটের শঙ্কায় পড়েছিল আফগানরা। কিন্তু ম্যাচের তখনো অনেক কিছু বাকি ছিল।
শেষদিকে আধুধাবিতে চার-ছক্কার বৃষ্টি নামিয়েছেন নবী। লঙ্কান বোলারদের একের পর বাউন্ডারি ছাড়া করেছেন অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার। তুলে নিয়েছেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফসেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ২২ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলে শেষ বলে রান আউট হন নবী।
লঙ্কানদের হয়ে একাই ৪ উইকেট নেন থুসারা। একটি করে উইকেট পেয়েছেন চামিরা, ভেল্লালাগে আর শানাকা।
লংকানদের সহায়তায় সুপার ফোরে বাংলাদেশ কেমন খেলে সেটা দেখতেই উদগ্রীব টাইগার সমর্থকরা। যদি ভাগ্য সহায় হয় মিলেও যেতে পারে এশিয়ার সেরা কাপটি। কারণ টাইগাররা ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি এশিয়ান কাপ ফাইনাল খেলেছে। কিন্তু ট্রফিটি অধরাই থেকে গেছে।
বিডিইয়র্ক ডেস্ক, নিউইয়র্ক।