ডিসেম্বর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেনাবাহিনীর খাতায় নাম উঠবে আমেরিকার তরুণদের
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
.
আমেরিকার ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী লক্ষ লক্ষ তরুণের জন্য একটি বড় পরিবর্তন আসছে। আগামী ডিসেম্বর থেকে তাদের আর নিজে থেকে সামরিক ড্রাফটের জন্য নাম নথিভুক্ত করতে হবে না — ফেডারেল সরকার নিজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই কাজ করে নেবে।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত একটি প্রস্তাবিত নিয়ম পরিবর্তনে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে, যা ইতিমধ্যে দেশজুড়ে তরুণদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে দিয়েছে।
সিলেক্টিভ সার্ভিস সিস্টেম, যে সরকারি সংস্থাটি ড্রাফট-যোগ্য আমেরিকানদের তালিকা রক্ষণাবেক্ষণ করে, গত ৩০ মার্চ অফিস অব ইনফরমেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সে এই "স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধন" নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে নিবন্ধনের দায়িত্ব এখন আর ব্যক্তির উপর থাকবে না — বরং ফেডারেল ডেটা উৎসের সাথে সংযুক্তির মাধ্যমে সিলেক্টিভ সার্ভিস সিস্টেম নিজেই সেই কাজ করে নেবে।
বিষয়টি নতুন নয় আইনগতভাবে। গত ডিসেম্বরে কংগ্রেস ২০২৬ সালের ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্টের অংশ হিসেবে এই স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধনের অনুমোদন দিয়েছিল। এই আইনটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর অর্থায়ন ও পরিচালনার জন্য প্রতি বছর পাস করা হয়। পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ক্রিসি হুলাহান, যিনি এই বিলে স্বয়ংক্রিয় ড্রাফট নিবন্ধনের ভাষা অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যুক্তি দিয়েছিলেন যে এটি করদাতাদের অর্থ সাশ্রয় করবে। তিনি বলেছিলেন, মানুষকে নিবন্ধনের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষামূলক প্রচারণা ও বিজ্ঞাপনে যে অর্থ খরচ হয়, সেই অর্থ সামরিক প্রস্তুতি ও সচলতায় কাজে লাগানো যাবে।
বর্তমান আইন অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী অধিকাংশ পুরুষকে ১৮তম জন্মদিনের ৩০ দিনের মধ্যে সিলেক্টিভ সার্ভিস সিস্টেমে নিজে নাম নথিভুক্ত করতে হয়। নিবন্ধন না করা একটি ফেলোনি অপরাধ — যার শাস্তি হিসেবে আড়াই লক্ষ ডলার পর্যন্ত জরিমানা বা পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া যারা নিবন্ধন করেননি, তারা স্টুডেন্ট লোন, সরকারি চাকরি এবং অভিবাসীদের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন। তবুও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিবন্ধনের হার কমছিল — ২০২৩ সালে ৮৪ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে তা নেমে এসেছে ৮১ শতাংশে।
তবে এই খবরটি যে কারণে এই মুহূর্তে বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে, সেটা হলো ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপট। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর আমেরিকায় আর কোনো সামরিক ড্রাফট হয়নি। কিন্তু গত ছয় সপ্তাহ ধরে চলা ইরান সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নতুন করে ড্রাফটের শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে। অনেক তরুণ এবং তাদের পরিবার প্রশ্ন করছেন — স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধনের এই সিদ্ধান্ত কি নিছক প্রশাসনিক সংস্কার, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো পরিকল্পনা আছে?
সরকার এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করেছে যে এটি কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সহজীকরণ — ড্রাফট পুনরায় চালু হওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু ইতিহাস বলে, শান্তির সময়ে যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়, যুদ্ধের সময়ে তা কাজে আসে। আর ডিসেম্বরের সেই স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধনের দিনটি যত ঘনিয়ে আসবে, আমেরিকার তরুণদের মনে উদ্বেগের সেই প্রশ্নটিও ততই বড় হতে থাকবে।