বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
২০ এপ্রিল সোমবার মার্কিন শ্রমমন্ত্রী লরি চ্যাভেজ-ডিরেমার পদত্যাগ করেছেন। তিনি হলেন এ বছর ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়া তৃতীয় মন্ত্রী — এর আগে মার্চে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম এবং এপ্রিলে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডিকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টিভেন চুং ঘোষণা করেছেন, চ্যাভেজ-ডিরেমার "বেসরকারি খাতে একটি পদ নিতে প্রশাসন ছাড়ছেন। " তার ডেপুটি কিথ সন্ডারলিং ভারপ্রাপ্ত শ্রম সেক্রেটারির দায়িত্ব নেবেন।
চ্যাভেজ-ডিরেমারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। নিউইয়র্ক পোস্ট গত জানুয়ারিতে প্রথম একটি হুইসেলব্লোয়ার অভিযোগ প্রকাশ করে, যেখানে দাবি করা হয় তিনি অফিস সময়ে মদ পান করতেন, তার নিরাপত্তারক্ষী ব্রায়ান স্লোয়ানের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রাখতেন এবং শীর্ষ সহকর্মীদের সঙ্গে শত্রুতামূলক কর্মপরিবেশ তৈরি করেছিলেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি তার চিফ অব স্টাফ জিহুন হান ও ডেপুটি রেবেকা রাইটকে ব্যবহার করে সরকারি ভ্রমণের আওতায় পারিবারিক বা বন্ধুদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সফর ঢেকে রাখতেন — যাকে "ট্র্যাভেল ফ্রড" বা ভ্রমণ জালিয়াতি বলা হচ্ছে।
তদন্ত প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও গুরুতর তথ্য বেরিয়ে আসে। তদন্তকারীরা মন্ত্রীর অফিসে মদের "মজুত" খুঁজে পান এবং তিনি অফিস স্টাফকে নিয়ে ওরেগনের একটি স্ট্রিপ ক্লাবে গিয়েছিলেন বলে সাক্ষ্য পাওয়া গেছে। তার নিরাপত্তারক্ষী স্লোয়ানকে চ্যাভেজ-ডিরেমার তার ওয়াশিংটনের অ্যাপার্টমেন্টে স্বাগত জানিয়েছিলেন এবং গত অক্টোবরে সরকারি শাটডাউনের মাঝেও লাস ভেগাসের রেড রক ক্যাসিনো রিসোর্টে নিয়ে গিয়েছিলেন — তার ভাগনির ৪০তম জন্মদিন উদযাপনের নামে করদাতাদের অর্থে। টেক্সট মেসেজে দেখা গেছে, চ্যাভেজ-ডিরেমার ও রাইট সরকারি সফরে জুনিয়র কর্মীদের চাপ দিয়ে মদের বোতল কিনিয়েছিলেন। কর্মীরা তাকে "বস ফ্রম হেল" বা "নরকের বস" বলে বর্ণনা করেছেন, কারণ তিনি কর্মীদের দিয়ে ব্যক্তিগত ফরমাশ খাটাতেন।
চ্যাভেজ-ডিরেমারের স্বামী ডা. শন ডিরেমারের বিরুদ্ধেও নারী কর্মীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছিল। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে ডিসি প্রসিকিউটররা অভিযোগ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি এখনো মন্ত্রণালয়ের সদর দফতরে প্রবেশে নিষিদ্ধ। এই অভিযোগগুলো ইকুয়াল এমপ্লয়মেন্ট অপোর্চুনিটি কমিশনে পুনরায় দাখিল করা হয়েছে। হান ও রাইট ৩ মার্চ, স্লোয়ান ১৯ মার্চ এবং চতুর্থ সহকারী মেলিসা রবি ২৫ মার্চ পদত্যাগ করেছেন — সবাই তদন্তের চাপে।
হান তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের মধ্যে ২০২৫ সালের শেষ দিকে মন্ত্রীর বডিগার্ডের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে কর্মীদের কোনো প্রশ্ন না তুলতে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে সূত্র জানিয়েছে। রাইট প্রাইভেটে ট্রাম্পের সমালোচনা করতেন এবং কর্মীদের বলতেন "হোয়াইট হাউস কী বলল তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না।"
তদন্তটি সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান চাক গ্রাসলিও পৃথকভাবে পরিচালনা করছেন। ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি'এসপোসিতো তদন্ত আরও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করবেন বলে আশা করা হচ্ছিল।
ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউস তদন্তের পুরোটা সময় প্রকাশ্যে চ্যাভেজ-ডিরেমারের পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং অভিযোগগুলোকে "ভিত্তিহীন" বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তৃতীয় মন্ত্রীর বিদায়ে ট্রাম্প মন্ত্রিসভার অস্থিরতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
ইব্রাহিম চৌধুরী সিনিয়র সাংবাদিক,
নিউইয়র্ক।