বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
প্রতিবেদন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্পদের হালনাগাদ বিবরণ প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন—এই এক বছরে অধিকাংশ উপদেষ্টা এবং তাঁদের স্ত্রী বা স্বামীর মোট সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বৃদ্ধি, স্ত্রীর কমেছে বিবরণ অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মোট আর্থিক সম্পদ এক বছরে প্রায় দেড় কোটি টাকার বেশি বেড়েছে। সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, ব্যাংক আমানতে মুনাফা এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ার এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের নন-ফাইনান্সিয়াল সম্পদ কিছুটা বাড়লেও মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা কমেছে। যাঁদের সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে উপদেষ্টা আদিলুর রহমানের মোট সম্পদ বেড়েছে দেড় কোটির বেশি। এক বছরে তাঁর সম্পদ ৯৮ লাখ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৫২ লাখ টাকায়। তাঁর স্ত্রীর সম্পদও প্রায় ৬৫ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা সম্পদ বেড়েছে বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের। তাঁর মোট সম্পদ চার কোটি ৪৬ লাখ টাকা থেকে বেড়ে পাঁচ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক হিসেবে রয়েছেন। তাঁর মোট সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বেশি।
এ ছাড়া অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারসহ একাধিক উপদেষ্টার সম্পদ বৃদ্ধির তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে। কার সম্পদ কমেছে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সম্পদ এক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তাঁর মোট সম্পদ দুই কোটি ২৫ লাখ টাকা থেকে নেমে এসেছে প্রায় এক কোটি ১২ লাখ টাকায়। যদিও তাঁর স্বামীর সম্পদের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এবং তাঁর স্ত্রীর সম্পদও কমেছে বলে বিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে। বিদেশে সম্পদের বড় অংশ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদের একটি বড় অংশ দেশের বাইরে রয়েছে। বিবরণ অনুযায়ী, তাঁদের বিদেশে থাকা সম্পদের পরিমাণ ৪৬ মিলিয়নের বেশি মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে ১২ লাখ ডলারের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী উপদেষ্টাদের সম্পদের চিত্র উপদেষ্টা পরিষদে থাকা শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সম্পদের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে। আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১৫ লাখ টাকার কিছু বেশি। মাহফুজ আলমের সম্পদ এক বছরে প্রায় তিন গুণ বেড়ে ১২ লাখ টাকার বেশি হয়েছে। তবে নাহিদ ইসলামের সম্পদের হিসাব এই বিবরণীতে নেই। পদত্যাগের পর তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর আর্থিক হিসাব প্রকাশ করেছিলেন। যাঁদের তথ্য নেই প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সম্পদের হিসাব এই বিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তাঁদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব গ্রহণের সময় ও অবৈতনিক পদমর্যাদার বিষয়টি উল্লেখ করেছে সরকার।
বিডিইয়র্ক ডেস্ক, ঢাকা।