রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।
আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বলেন, আজকের বৈঠকের প্রথম এজেন্ডা ছিল সফল ও ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ। এ সময় নির্বাচন পরিচালনায় সম্পৃক্ত সকল প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা বিশেষভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে উপদেষ্টারা এবারের নির্বাচন আয়োজনকে ‘মহা সাফল্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন আগে হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। দায়িত্ব পালনে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ আনসার এবং বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও প্রকৃত অর্থে নির্বাচন-সম্পর্কিত সহিংসতায় একজন নিহত হয়েছেন বলে বৈঠকে জানানো হয়। নোয়াখালীর হাতিয়ায় সংঘটিত একটি ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ব্যাপকভাবে বডি-ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি এবং ‘সুরক্ষা’ অ্যাপ ব্যবহার করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে ১৭টি ভোটকেন্দ্র সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। ভবিষ্যতে বডি-ওর্ন ক্যামেরা নির্বাচন ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এর স্বাধীন ও দৃঢ় ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ এবং ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট নির্বাচনের ভূয়সী প্রশংসা করেছে বলেও জানানো হয়। নারী ও তরুণ ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়।
এছাড়া সদ্য পদত্যাগকারী সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ-এর অবদানের জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় এবং তার দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ-এ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন বিকেল ৪টায় সংসদের সাউথ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা ভাগ্যবান যে এই জাতিকে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি।”
বিডিইয়র্ক ডেস্ক, ঢাকা।