সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২৬
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের (আসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস) সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কার্যত নেই বলে জানিয়েছেন জোটটির মহাসচিব কাও কিম হোর্ন। তিনি বলেছেন, বর্তমান আসিয়ান সনদ অনুযায়ী ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সদস্যপদের যোগ্যতা পূরণ করে না।
সম্প্রতি ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ১০ম আসিয়ান মিডিয়া ফোরাম-এ তিনি এসব কথা বলেন। বিষয়টি গত ৩১ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম জাকার্তা গ্লোব। কাও কিম হোর্ন বলেন, পূর্ব তিমুরকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আসিয়ানের সম্প্রসারণ কার্যত শেষ হয়েছে। বর্তমানে আসিয়ান সনদ অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বীকৃত ১১টি দেশই জোটটির সদস্য এবং বিদ্যমান কাঠামোতে নতুন কোনো দেশের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নেই। তিনি ব্যাখ্যা করেন, আসিয়ানের সদস্য হওয়ার অন্যতম মৌলিক শর্ত হলো সংশ্লিষ্ট দেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভৌগোলিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশ এবং পাপুয়া নিউগিনি ওশেনিয়া অঞ্চলের অংশ। ফলে বর্তমান সনদের আওতায় এই দুই দেশের সদস্যপদ পাওয়ার সুযোগ নেই।
আসিয়ানের মহাসচিব আরও বলেন, বাংলাদেশ বা পাপুয়া নিউগিনিকে সদস্য করতে হলে প্রথমে আসিয়ান সনদ সংশোধন করতে হবে। তবে সেটি সহজ কোনো প্রক্রিয়া নয়। কারণ, সনদ পরিবর্তনের জন্য জোটের সব সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মত অনুমোদন প্রয়োজন। ভৌগোলিক সংজ্ঞা পরিবর্তন না হলে বর্তমান ১১টি সদস্য দেশ নিয়েই আসিয়ান পরিচালিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর পূর্ব তিমুর গত বছর আসিয়ানের সর্বশেষ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দেশটি ২০১১ সাল থেকেই সদস্যপদের জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার প্রসঙ্গে একসময় পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা রসিকতা করে বলেছিলেন, “আসিয়ানে প্রবেশের চেয়ে যেন স্বর্গে যাওয়া সহজ।” বাংলাদেশও দীর্ঘদিন ধরে আসিয়ানের সদস্যপদ পাওয়ার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে আসছে। গত বছর মালয়েশিয়া জোটটির চেয়ারম্যান থাকাকালে ঢাকা কুয়ালালামপুরের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে মহাসচিবের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বর্তমান সনদ বহাল থাকলে বাংলাদেশের সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো পাপুয়া নিউগিনির সদস্যপদের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। ২০২৫ সালে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আসিয়ান সম্মেলনে তিনি বলেন, আঞ্চলিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে আরও শক্তিশালী আসিয়ান গড়ে তুলতে পাপুয়া নিউগিনির সদস্যপদের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তবে এ ধরনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য আসিয়ান সনদে সংশোধন আনা এবং সদস্য দেশগুলোর সর্বসম্মত সমর্থন পাওয়া অপরিহার্য।
বিডিইয়র্ক ডেস্ক, নিউইয়র্ক।