বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০২২
গত রোববার দুপুরের আগে এক পশলা বৃষ্টি আয়োজকদের কিছুটা ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। তবে পরে আর বৃষ্টি আসেনি।
বেলা ৩টায় আয়োজকরা দুই দেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু করেন মেলার কার্যক্রম। বাংলাদেশি-আমেরিকান ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটি-বাফস’র সভাপতি কাজি আজমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুল এইচ চৌধুরী।
এ সময় কাজি আজম বলেন, প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে আমরা এক যুগ ধরে কাজ করে আসছি। আপনাদেরকে সাথে নিয়ে আমরা এ ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।
সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুল এইচ চৌধুরী মেলায় অংশ নেয়া মুলধারার ও বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশি আমেরিকানদের বিনোদনের ব্যবস্থা করতে সব সময়ই তৎপর থাকব। এরপর থেকে বিরতিহীনভাবে চলে বিভিন্ন সংগঠন ও শিল্পীদের পরিবেশনা।
পড়ন্ত বিকালে মেলায় আসেন বাংলাদেশি আমেরিকানদের মধ্যে ইতিহাস সৃষ্টিকারী ডিস্ট্রিক্ট ৩৯ থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফ। তিনি সবাইকে জানান,চার্চ ম্যাকডোনাল্ড ইন্টারসেকশন এখন লিটল বাংলাদেশ। কারণ এই ব্যাপারে তাঁর আনীত বিলটি ৪৭-০ ভোটে সিটি কাউন্সিলে পাশ হয়েছে। এ সময় ব্রুকলিন মেলায় উপস্থিত হাজারো মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়েন। শাহানা হানিফ বলেন, তিনি খুব শীঘ্রই সবাইকে নিয়ে লিটল বাংলাদেশ উদ্বোধন করবেন।
উদ্বোধনের পর থেকেই নিউইয়র্কের জনপ্রিয় শিল্পীরা গানে গানে মাতিয়ে রাখেন গোটা এলাকা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন মোস্তফা অনিক রাজ, চন্দন চৌধুরী, শামীম সিদ্দিকী, শাহ মাহবুব,রানো নেওয়াজ, রিজিয়া পারভীন ও এসআই টুটুল। বিশেষে করে শেষ বিকেলে রিজিয়া পারভীন ও এসআই টুটুলের পরিবেশনায় উচ্ছাস প্রকাশ করেন উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক-শ্রোতা।
ব্রুকলিন মেলার আহবায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট শাহ নেওয়াজ এবং সদস্য সচিব ছিলেন ফিরোজ আহমেদ। আর প্রধান স্পন্সর ছিলেন ডা. সারওয়ারুল আলম। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কাজি নয়ন, ডিস্ট্রিক্ট লিডার এট লার্জ এটর্নী মঈন চৌধুরী, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী নূরুল আজিম, নিউইয়র্ক-বাংলাদেশি লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি আহসান হাবিব, সাধারণ সম্পাদক হোসাইন জিলানী,ফাহাদ সুলায়মান, শো টাইম মিউজিকের সিইও আলমগীর খান আলমসহ অনেকে।
গোটা অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন সোনিয়া ও এস এম ফেরদৌস।
ব্রুকলিন মেলায় প্রায় শতাধিক স্টল স্থান পায়। প্রতিটি স্টলে ছিল দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের উপচেপরা ভীড়।
শাহ ফারুক রহমান
এডিটর, বিডিইয়র্ক, নিউইয়র্ক।