শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪
আজ যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমূখর পরিবেশে জাতিসংঘেবাংলাদেশ স্থায়ী মিশন নিউইয়র্ক-এ মহান বিজয় দিবস-২০২৪ উদযাপন করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা, বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রবাসী বাংলাদেশীগণ।
অনুষ্ঠানটি শুরু হয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয়সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। আলোচনা পর্ব শুরুর আগে মহানমুক্তিযুদ্ধে আত্ম-উৎসর্গকারী বীর শহীদগণ এবং জুলাই-আগস্টগণঅভ্যুত্থানে বীর শহীদগণের স্মরণে একমিনিট নিরবতা পালনও তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়াকরা হয়।
আগত অতিথিদের আলোচনা শেষে সমাপনী বক্তব্য প্রদানকরেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূতমোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধেরত্রিশ লাখ শহীদ ও দুইলাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনসহ সকল বীরমুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি এবং জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বীরশহীদগনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিতসবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন মহানমুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন আমাদেরসূর্যসন্তানগণ দেখেছিলেন, যে স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁরা অমূল্য প্রাণউৎসর্গ করেছিলেন, তা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থান। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সামঞ্জস্য বর্ণনা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য নির্মূলের মাধ্যমে যেবাংলাদেশ সৃষ্টির স্বপ্নে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকরেছিলেন সেই একই প্রেরণায় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। তিনি গণঅভ্যুথানের উত্তাল সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সমর্থনএবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দ্বারা গণঅভ্যুত্থানকেবেগবান করতে তাঁদের অবদান স্বরণ করেন এবং তাঁদের প্রতিকৃতজ্ঞতা জানান। এছাড়াও তিনি গণঅভ্যুথানের চেতনায় অদম্যবাংলাদেশ ২.০ গড়ে তোলার জন্য সকল প্রবাসী বাংলাদেশীকেএকযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। নানা ধরনের চড়াই-উতরাইপেরিয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ এগিয়েচলেছে মন্তব্য করে রাষ্ট্রদূত মুহিত বলেন, অর্থনৈতিক যে সংকট সৃষ্টিহয়েছিল তা মোকাবেলায় ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারসাফল্য প্রদর্শন করেছে। এ বিষয়ে তিনি প্রবাসীদের রেমিট্যান্সপ্রেরণের মাধ্যমে অবদান রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান। এই মুহুর্তে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ যে সকল সমস্যার সম্মুখীনহচ্ছে তা মোকাবেলায় সকলের একতাবদ্ধ থাকার বিষয়েওগুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আলোচনা পর্ব শেষে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশীঅতিথিবৃন্দকে মধ্যাহ্ন ভোজের দ্বারা আপ্যায়নের মধ্য দিয়েঅনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
বিডিইয়র্ক ডেস্ক,নিউইয়র্ক ।