সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন আসবে এবং অপশাসনের পুনরাবৃত্তির পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। সোমবার সকালে সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত এক গেট টুগেদার অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রেস সচিব জানান, অনুষ্ঠানে সিনিয়র সচিব ও সচিবসহ প্রায় ৭০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ছবি তোলেন। আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অতীতের নির্বাচনগুলো প্রকৃত অর্থে নির্বাচন ছিল না, বরং সেগুলো ছিল প্রহসন। তবে এবার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি এবং দেশ প্রায় চূড়ান্ত লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সূচনা করবে। এই প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরাসরি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। অতীতে গণআন্দোলনে প্রবাসীদের অবদান থাকলেও, এবার তা একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও সম্মানজনক রূপ পেয়েছে। নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা জানান, ভোটারদের সহায়তার জন্য একটি বিশেষ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও তদারকির জন্য আলাদা নির্বাচনভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহৃত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ‘নির্বাচন বন্ধু হটলাইন–৩৩৩’ চালু রয়েছে, প্রায় ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে এবারের নির্বাচন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিক বিশ্বাসযোগ্য হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসছেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে অনুষ্ঠিত আগের তিনটি নির্বাচনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা ছিল না এবং তখন উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকও উপস্থিত ছিলেন না।
নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তেমন কোনো উত্তেজনা নেই। প্রচারণা শান্তিপূর্ণভাবে চলছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করছে। সচিবদের উদ্দেশে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গত ১৮ মাসে প্রায় ১৩০টি অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, যা সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করেছে। দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখানে কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হচ্ছেন এবং তরুণ জনগোষ্ঠী ভবিষ্যতের জন্য একটি বিশাল শক্তি।
জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে অনেক দেশের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া যাবে, যা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আরও সুন্দর ও সুসংগঠিতভাবে গড়ে উঠবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিডিইয়র্ক ডেস্ক, ঢাকা।