বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ঢাকা, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে একটি শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সংবিধান ও আইনের বিধান অনুসরণ করে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কমিশন নিরলসভাবে কাজ করছে।
জনগণের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। ব্রিফিংয়ে অন্য চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সিইসি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে বিস্তৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেকোনো নির্বাচনী বিরোধ প্রতিষ্ঠিত আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় কঠোরভাবে নিষ্পত্তি করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্বচ্ছতাকে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার মূলভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জনআস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভোটকেন্দ্রের গোপনীয়তা বজায় রেখে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং দেশীয়-আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নির্দেশিকা অনুযায়ী পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তারাও তাদের পর্যবেক্ষণ ও ফলাফল প্রকাশ করতে পারবেন। তিনি জানান, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ ৪৫টি দেশ ও সংস্থার পর্যবেক্ষক এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়া সম্পর্কে সিইসি বলেন, যথাযথ পরিচয় যাচাইয়ের পর ব্যালট ইস্যু করা হবে এবং নির্ধারিত নিয়মে গোপনীয়তা বজায় রেখে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। কেন্দ্রেই ভোট গণনা হবে এবং সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা ফলাফল সংকলন করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন। ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আজ ও আগামীকাল সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
সিইসি আরও জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ২৭ লাখ নারী। বর্তমানে দেশে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি। এ কার্যক্রমে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সহায়তা করেছে। প্রথমবারের মতো তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সীমিত প্রস্তুতি সত্ত্বেও প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, যা কমিশনের মতে ইতিবাচক সাড়া। সিইসি জানান, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো কেন্দ্রভিত্তিক পাঠানো হচ্ছে। কমিশনের আশা, সবার সহযোগিতায় দেশ একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সাক্ষী হবে।
বিডিইয়র্ক ডেস্ক, ঢাকা।