বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের মাঠে এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষ কার্যক্রম প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোটগ্রহণের শেষ সময় পর্যন্ত বাহিনী একইভাবে দায়িত্বশীল অবস্থান বজায় রাখলে দেশ একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পাবে।
নির্বাচনী পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, ঢাকা-১৫ আসনে সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক থাকলেও মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় বালিকা শাখা কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। তার অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের কিছু লোক হঠাৎ করে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং কয়েকজনকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন তিনি। কিছু জায়গায় প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন জামায়াত আমির। তবে সেনাবাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বিশেষভাবে কুমিল্লার লাকসাম ও ভোলার লালমোহনের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে বিএনপির দলীয় লোকজন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনিয়ম বা জালিয়াতির মাধ্যমে গঠিত কোনো সরকারের জনগণের কাছে নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না।
নির্বাচনে প্রকৃত জনরায় প্রতিফলনের স্বার্থে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে যেসব স্থানে অনিয়মের খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে দ্রুত সেনা মোতায়েনের দাবিও জানান। ব্রিফিংয়ের শেষাংশে সারাদেশে দলীয় নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেন জামায়াত আমির। তার মতে, ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারলে ‘অপশক্তি’ পরাজিত হবে। সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি স্বচ্ছ ও ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দেওয়া এখন সময়ের দাবি। দিন শেষে গ্রহণযোগ্য ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা নতুন মাত্রা পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিডিইয়র্ক ডেস্ক, ঢাকা।