বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
দেশজুড়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একযোগে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০১৪ সালের ‘একতরফা’, ২০১৮ সালের ‘রাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালের ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনের পর এবারের ভোট গণতন্ত্র পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলে তা গণতান্ত্রিক উত্তরণের সূচনা হিসেবে চিহ্নিত হবে। পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি হলে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশে ৯ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় মাঠে ছিলেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রে নেওয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং প্রায় এক হাজার ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থা ছিল। ভোট পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেন ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা। এছাড়া ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং অফিসার দায়িত্বে ছিলেন।
ভোটের পরিসংখ্যান ৩০০ আসনের মধ্যে শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত থাকায় ২৯৯টি আসনে ভোট হয়। মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৩ জন, যার মধ্যে ২০ জন স্বতন্ত্র। নির্বাচনে অংশ নেয় ৫০টি রাজনৈতিক দল। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ অংশ নেয়নি। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি প্রভৃতি। দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। প্রায় ৪ কোটি তরুণ এবার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন।
পোস্টাল ব্যালট ও প্রবাসী ভোট প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বন্দিরাও এই ব্যবস্থায় ভোট দিয়েছেন। বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৮৩৮ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। নিবন্ধন করেছিলেন ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন; এর মধ্যে প্রবাসী ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন এবং দেশের ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন। এখন সবার দৃষ্টি ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার দিকে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গণনা শেষে পর্যায়ক্রমে ফল প্রকাশ করা হবে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফল আসতে শুরু করেছে। পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পাওয়া মাত্রই আমরা পাঠকদের উদ্দেশ্যে তা তুলে ধরবো।
বিডিইয়র্ক ডেস্ক, ঢাকা।