যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পবিত্র লায়লাতুল কদর পালিত হয়েছে। গোটা যুক্তরাষ্ট্রে ২৭শ মসজিদে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি রাতভর ইবাদতে মশগুল থাকেন।
সাধারণ মুসল্লিদের ইবাদতের সুযোগ দিতে প্রতিটি মসজিদ খোলা রাখেন মসজিদ কর্তৃপক্ষ। ফলে মসজিদ সংলগ্ন প্রতিটি এলাকায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের পদচারণায় এক অসাধারণ ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের সৃষ্টি হয়।
মুসল্লিগণ এশা ও তারাবীহ নামাজের পর আপন মনে ব্যক্তিগত ইবাদত করে রাত কাটিয়ে দেন। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, জিকির ও দোয়া করে পবিত্র রজনীর বরকত হাসিলে নিজেদের উজার করে দেন মুসল্লিগণ। মহান আল্লাহ’র নৈকট্য লাভের আশায় ও নানারকম বালা মুছিবত থেকে মুক্তির জন্য অনেক মুসল্লিকে দোয়ারত অবস্থায় কাঁদতে দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মুসলিম অধ্যূসিত স্টেট নিউইয়র্কের প্রতিটি শহরে রাতব্যাপী ইবাদতের মধ্য দিয়ে পালিত হয় পবিত্র লায়লাতুল কদর।
মুলত সন্ধ্যার পর থেকেই কুইন্স, ব্রুকলিন, ব্রন্কস, লং আইল্যান্ড ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ড এলাকার প্রতিটি মসজিদে ছোট, বড় সব বয়সী মুসল্লিরা আসতে থাকেন। এশার নামাজের অনেক আগেই প্রতিটি মসজিদ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বলা যায়, মসজিদগুলোতে তিল ধারণের জায়গা ছিলনা। অনেককে প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে মসজিদের বাইরে টানানো তাঁবুর ভিতর নামাজ পড়তে দেখা যায়।
> নিউইয়র্কের জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে মুসল্লিদের ছিল উপচেপরা ভীড়। এখানকার খতিব মাওলানা আবু জাফর বেগ ও ইমাম শামসে আলীসহ অন্য ইমামগণ মুসল্লিদের উদ্দেশ্য বয়ান করেন। মুসলিম সেন্টারসহ প্রতিটি মসজিদে তারাবীহ নামাজের ফাঁকে ফাঁকে তহবিল সংগ্রহ করা হয়। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ উদার হল্তে দান করেন আল্লাহর রাস্তায়।
এসব মসজিদে এশা ও তারাবীহ’র নামাজের পর ব্যক্তিগত ইবাদত করে অনেক মুসল্লি শেষরাত পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করেন। অনেকে বাসায় ফিরে ইবাদত করেন। তবে শেষ রাতে আখেরী বয়ানের আগে অধিকাংশ মুসল্লি মসজিদে ফিরে আসেন। আখেরী মোনাজাতের সময় মুসল্লিগণ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
সেহরীর সময় নিউইয়র্কের প্রতিটি মসজিদে মুসল্লিদের মাঝে খাবার পরিবেশন করা হয়। ফজরের আজানের পর জামাতে আদায় করে ঘরে ফিরেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
রাতভর ইবাদত করে শ্রেষ্ঠ রজনী লায়লাতুল কদর পার করেন নিউইয়র্কসহ গোটা যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সম্প্রদায়।
শাহ ফারুক রহমান
এডিটর, বিডিইয়র্ক, নিউইয়র্ক।