শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রমনা জনগণ বিএনপিকে বিজয়ী করেছে। তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-এর বলরুমে আয়োজিত নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশে সরাসরি ভোটের ভিত্তিতে জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহার ও ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র মেরামতের যে রূপরেখা দল উপস্থাপন করেছিল, তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অকার্যকর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের মাধ্যমে নতুন যাত্রা শুরু হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দলের সঙ্গে মতবিনিময়ের ভিত্তিতে প্রণীত ৩১ দফা এবং দলীয় ইশতেহারের অঙ্গীকারসমূহ বাস্তবায়নে দল কাজ করবে। পাশাপাশি ‘জুলাই সনদে’ দেওয়া নোট অব ডিসেন্টসহ সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।
জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলকে অভিনন্দন। পথ ও মতের ভিন্নতা থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সরকার ও বিরোধী দল দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। কোনো ধরনের অন্যায় বা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না।
সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি। শত উসকানির মুখেও নেতাকর্মীদের শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারেক রহমান। দল, মত, ধর্ম বা ভিন্নমত নির্বিশেষে দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদ ও হতাহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, জাতি তাদের অবদান চিরকাল স্মরণ রাখবে।
এ সময় তিনি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-কে স্মরণ করে বলেন, দেশের এমন এক আনন্দঘন সময়ে তাঁর অনুপস্থিতি দলকে ভারাক্রান্ত করেছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান জাতি কখনো ভুলবে না।
দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, এখন দেশ গড়ার পালা। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিডিইয়র্ক ডেস্ক, ঢাকা।