তিনি দাবি করেন সীমান্ত এখন আগের চেয়ে বেশি সুরক্ষিত, আইনসম্মত অভিবাসনকে স্বাগত জানানো হবে, তবে অবৈধ প্রবেশ রোধে কঠোরতা অব্যাহত থাকবে। কংগ্রেসের কাছে তিনি “সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট” পাসের আহ্বান জানান—যেখানে ভোটার আইডি বাধ্যতামূলক করা, নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখানো এবং ডাকযোগে ভোটের নিয়মে পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বাজেট অচলাবস্থার জন্য তিনি ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করে সীমান্ত নিরাপত্তার সব তহবিল পুনর্বহালের দাবি তোলেন। অর্থনীতির প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, মুদ্রাস্ফীতি কমেছে, গ্যাস ও মর্টগেজের হার নেমেছে, স্টক মার্কেট ও অবসরভাতা অ্যাকাউন্ট বেড়েছে; দেশ “বিশ্বের সবচেয়ে উত্তপ্ত অর্থনীতিতে” পরিণত হয়েছে বলে তার দাবি। আমেরিকান তেল ও গ্যাস উৎপাদন সর্বকালের উচ্চতায়, বেসরকারি খাতে নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে, এমনকি দুই মিলিয়ন মানুষ ফুড স্ট্যাম্প তালিকা থেকে বেরিয়ে এসেছে—এগুলোকে তিনি প্রশাসনের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন। করনীতিতে তিনি ওভারটাইমে কর নয়, সোশ্যাল সিকিউরিটিতে কর নয়—এমন প্রস্তাবের কথা বলেন; আমেরিকায় তৈরি গাড়ির অটো লোনে করছাড়ের কথাও উল্লেখ করেন। শুল্ক (ট্যারিফ) নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, এটি দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিচ্ছে। দাম কমার দাবিও ছিল তার ভাষণে—ডিম, মুরগি, গরুর মাংসের মূল্য হ্রাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যুতের দামও অধিকাংশ কমিউনিটিতে কমানো হবে। স্বাস্থ্যখাতে তিনি পূর্ববর্তী আইনকে বীমা কোম্পানির পক্ষে বলে সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন তার প্রস্তাব সরাসরি জনগণকে সহায়তা দেবে; ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগ চলছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথাও তুলে ধরেন, মিনেসোটা ও অন্য কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের প্রসঙ্গ টেনে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন; সোমালিয়া উপকূলের জলদস্যুতা ইস্যুতেও কংগ্রেসের সহযোগিতা চান। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রকে “কমিউনিস্ট” আখ্যা দিয়ে স্থানীয় নীতির সমালোচনা করেন। >ভাষণের এক পর্যায়ে ক্রীড়া ও জাতীয় গর্বের প্রসঙ্গ আসে। ২০২৬ বিশ্বকাপ ও অলিম্পিক আয়োজনকে সামনে রেখে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেবে; কংগ্রেসে একটি হকি দলকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় ঐক্যের বার্তাও দেন। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের ভাষণ ছিল আত্মবিশ্বাসী, আক্রমণাত্মক ও নির্বাচনী সুরে ভরপুর—যেখানে সীমান্ত, করছাড়, জ্বালানি উৎপাদন, মূল্যস্ফীতি, স্বাস্থ্যখাত ও ভোটব্যবস্থা—সবকিছুকে এক সুতোয় গেঁথে তিনি দাবি করেছেন, “আমরা জিতছি—আরও বড় জয় সামনে।”
বিডিইয়র্ক ডেস্ক, নিউইয়র্ক।