শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক সপ্তাহের টানটান উত্তেজনার পর ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে আকাশপথে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ঘোষণা দেন, ইরানে “মেজর কমব্যাট অপারেশন” শুরু হয়েছে।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প “মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে। ”ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় বলেন, এই যৌথ অভিযানের লক্ষ্য হলো ইরানের শাসনব্যবস্থার পক্ষ থেকে তৈরি “অস্তিত্বগত হুমকি” দূর করা। তার মতে, এই পদক্ষেপ ইরানের জনগণের জন্য “নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতে নেওয়ার” পরিবেশ তৈরি করবে। এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের দিক থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। দেশজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। সকাল সাড়ে আটটার দিকে বিভিন্ন শহরে এয়ার রেইড সাইরেন বেজে ওঠে, নাগরিকদের বাঙ্কারে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বেসামরিক সব যাত্রীবাহী ফ্লাইটের জন্য আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ও রকেট হামলার শব্দ শোনা গেছে। টেলিভিশন ফুটেজে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেলেও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।একজন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযান কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে এবং ইসরায়েল মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে লক্ষ্যবস্তু করছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছিল, যা সম্ভাব্য অভিযানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছিল।পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নেয় কি না—এখন সেই দিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।
ইব্রাহিম চৌধুরী
সিনিয়র সাংবাদিক, নিউইয়র্ক।