শতকরা ৮০ভাগ বাংলাদেশী আমেরিকান বাইডেনকে সমর্থন করছেন
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০
বাংলাদেশী আমেরিকান ভোটার
এক পরিসংখান থেকে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ বাংলাদেশীর সংখ্যা সাড়ে দশ লক্ষ । আর বাংলাদেশী আমেরিকান ভোটারের সংখ্যা সাড়ে ছয় লক্ষ।
এর অধিকাংশই ডেমোক্রেট সাপোর্টার। অর্থাৎ মোট বাংলাদেশী আমেরিকান ভোটারের শতকরা ৮০ ভাগ বাইডেনকে সমর্থন করছেন।
অন্যসব ইমিগ্রেন্টেদর মত বাংলাদেশীরাও মনে করেন, ডেমোক্রেটরা ইমিগ্রেন্টবান্ধব। তাদের মতে, শিক্ষা, স্বাস্হ্য , আবাসনসহ নাগরিক বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার বিষয়ে ডেমোক্রটরা ইমিগ্রেনদের প্রতি সহানভূতশীল। করোনাকালীণ ডেমোক্রেট নেতৃত্ব আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা ও খাদ্য নিরাপত্তার ব্যাপারে খুবই আন্তরিক ছিলেন। বিশেষ করে নিউইয়র্ক স্টেটে লকডাউনের চার মাস প্রতি বেলার খাবার সরবরাহ করেছে কর্তৃপক্ষ। যা সাধারণ মানুষের মনে দাগ কেটেছে। অন্যান্য ডেমোক্রেট স্টেটেও সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন ডেমোক্রেট নেতৃত্ব। এমনকি চাকরীহারা মানুষ লকডাউনের সময় ঘরে বসে প্রতি সপ্তাহে যে৬০০ ডলার করে পেয়েছেন সেটিও ডেমোক্রেটদের প্রস্তাব ছিলো। অন্যদিকে রিপাবলিকান নেতৃত্ব ছিলেন তার উল্টোপথে। আর তাই সাধারণ বাংলাদেশি আমেরিকানরা মনে করেন, সীমাবদ্ধতা সত্বেও ডেমোক্রেট পার্টি দুর্যোগকালীণ তাদের সাধ্যমত চেষ্টা করেছে। রামিংমেট হিসেবে বাইডেনের সিনেটর কমলা হ্যারিসকে বেছে নেওয়াকেও ভালভাবে নিয়েছেন অনেক বাংলাদেশী আমেরিকান ভোটার। এটিকে ইমিগ্রেন্টদের প্রতি বাইডেনের সহানুভূতি ফুটে উঠেছে বলে মনে করেন অনেকে। ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের মা দক্ষিন ভারতের অধিবাসী ছিলেন, সেটিও বাংলাদেশী আমেরিকানদের ডেমোক্রেট সহানুভূতি তৈরী করেছে।বাংলাদেশি ভোটারদের অনেকেই আগাম ভোট দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশি আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে যারা রিপাবলিকান, তারা মনে করেন ডেমোক্রেটরা সব সময় আমেরিকানদের চেয়ে বাইরের মানুষ নিয়ে বেশি ভাবে। বিশেষ করে অবৈধদের অধিকার নিয়ে তারা অতি বাড়াবাড়ি করেন যা আমেরিকানদের উপর চাপ তৈরী করে। এছাড়া ডেমোক্রেটদের করোনার নামে মানুষকে ঘরে বসিয়ে ভাতা দেওয়া, হাউজ স্পীকার ন্যান্সি পেলোসির একঘেয়েমির কারণে দ্বিতীয় স্টীমুলাস বিল পাশ না হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে ডেমোক্রেটদের উপর বিরক্ত বলে মনে করেন বাংলাদেশি রিপাবলিকান সমর্থকরা। তারা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট সঠিক পথে আছেন এবং তিনিই পুনরায় নির্বাচিত হবেন। বাংলাদেশি ডেমোক্রেটরা ব্লু ওয়েভ আর রিপাবলিকানরা রেড ওয়েভ শুরু হয়েছে বলে দাবিও করেছেন। এখন অপেক্ষা ৩রা নভেম্বরের।
শাহ ফারুক রহমান, নিউইয়র্ক।