সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ভোটের দিন যেন কোনো ধরনের কারচুপি বা ভোট ডাকাতি না হয়, সে জন্য এখন থেকেই পাহারাদারি শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কোনো জালিয়াত, ভোটচোর বা অবৈধ শক্তি যেন জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে খেলতে না পারে—সেটা রুখে দিতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, “এখন থেকেই পাহারাদারি শুরু করতে হবে। বিজয়ের মালা গলায় পরিয়ে দিয়েই আপনারা ঘরে ফিরবেন। ” ঢাকা-১৩ আসনের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, যিনি ঢাকা-১১ আসনে এনসিপির প্রার্থী। শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই এবার ১১ দল একত্রিত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা একত্রিত হয়েছি জুলাই যোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য, একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে। এই ঐক্য চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, মামলাবাজ এবং অপরাধজগতের কারিগরদের বিরুদ্ধে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে বিজয়ও জনগণেরই হবে, ইনশাআল্লাহ।”
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় যেমন ইন্টারনেট বন্ধ করে অন্যায় আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল, এখনো একইভাবে নির্বাচন কমিশন একটি অন্ধকার পথে হাঁটার চেষ্টা করছে কি না—সে প্রশ্ন উঠছে। তিনি আরও বলেন, ভোটের দিন কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সব ধরনের রেকর্ডিং ডিভাইস, ক্যামেরা ও মোবাইল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। “জুলাইয়ের অপকর্ম যেমন মেনে নেওয়া হয়নি, আজও তা মেনে নেওয়ার প্রশ্ন আসে না,”—বলেন তিনি। নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি এই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না করা হয় এবং জনগণকে স্পষ্ট বার্তা না দেওয়া হয়, তাহলে নির্বাচন নয়—নির্বাচনী প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হবে, যার দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে। একটি পক্ষ পরাজয়ের আশঙ্কায় হতাশ হয়ে চোরাই পথে নির্বাচন দখলের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় গুন্ডা লেলিয়ে দেওয়া, অস্ত্র মজুত এবং ভোটকেন্দ্র দখলের পরিকল্পনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “জুলাই যোদ্ধারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা এখনো জেগে আছে। জনগণের ভোট ছিনতাইয়ের কোনো দুঃসাহস বরদাশত করা হবে না।” ঢাকা-১৩ আসনকে মর্যাদাপূর্ণ উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, কিছু অসাধু চক্র এই এলাকাকে চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে জর্জরিত করেছে। বিপথগামী তরুণদের সংশোধন করে মর্যাদাবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকারও করেন তিনি। তিনি বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীর পক্ষে নির্বাচনে নামিনি। আমরা ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে নেমেছি। নির্বাচিত হলে কোনো দলীয় সরকার নয়, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।” শফিকুর রহমান বলেন, তারা নির্দিষ্ট কোনো দলের বিজয় নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চান। জনগণের বিজয়ই হবে তাদের মহাবিজয়।
শেষদিকে তিনি বলেন, কিছু শক্তি দল ও ব্যক্তিগত বিজয়ের লোভে অন্ধ হয়ে পড়েছে, কিন্তু শান্তিপ্রিয় জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। জুলাই আকাঙ্ক্ষার পক্ষে থাকা শক্তিগুলোকেই জনগণ বেছে নেবে—এর লক্ষণ ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। তিনি আরও বলেন, পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা জুলাই আকাঙ্ক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ১২ তারিখেও দেশ একই চিত্র দেখবে। কেউ যদি ভয়ে পড়ে গোপন পথে ষড়যন্ত্রে নামে, তাহলে জাতি তা মেনে নেবে না।
বিডিইয়র্ক ডেস্ক, ঢাকা।