সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। তবে একটি শক্তিশালী মহল সেই পরিবর্তনের বিরোধিতা করছে, কারণ পরিবর্তন হলে তাদের অনিয়ম ও অপকর্মের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।
সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “আমরা এই ধারা পরিবর্তন করতে চাই। সবাইকে নিয়ে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। ” ভাষণের শুরুতে তিনি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, তিনি কোনো গতানুগতিক রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে আসেননি; বরং নিজের মনের কথাই তুলে ধরতে চান—যা তরুণ প্রজন্মসহ সব শ্রেণি- পেশার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ডা. শফিকুর রহমান জুলাইয়ের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। একই সঙ্গে জুলাইয়ের সহিংসতায় আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন সম্ভব হয়েছিল জাতীয় ঐক্যের কারণে। তরুণদের পাশাপাশি মা-বোন, শ্রমিক, রিকশাচালক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, পেশাজীবী এবং দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে সে আন্দোলন গড়ে ওঠে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যতে আর যেন জনগণকে রাস্তায় নামতে না হয়—এমন বাংলাদেশই সবাই চায়। তার বক্তব্যে উঠে আসে, জুলাইয়ের আন্দোলনের মূল দাবি ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ এবং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একচেটিয়া রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তন।
তিনি অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর পরিবারতন্ত্র ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত ছিল। বিশেষ করে ২০০৯ সালের পর থেকে মানবাধিকার, ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও তথাকথিত আয়নাঘরের মাধ্যমে জনগণের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলোকে তিনি “নির্বাচনের নামে তামাশা” হিসেবে আখ্যা দেন। জামায়াত আমির বলেন, দেশের তরুণরা এখন “নতুন বাংলাদেশ” বা “বাংলাদেশ ২.০” দেখতে চায়। এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়াচ্ছে, তারা মূলত নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতেই তা করছে।
তিনি আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওসমান হাদীসহ আন্দোলনে শহীদদের সাহসিকতার কথা উল্লেখ করে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে পরিবর্তনের পথে অনুপ্রাণিত করেছে। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ তাদের হাতেই। তারা সাহসী, মেধাবী, পরিশ্রমী এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন। সত্য কথা বলতে তারা পিছপা হয় না। এই তরুণদের সঙ্গী হয়েই জামায়াতে ইসলামী নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়।
ভাষণের শেষাংশে তিনি বলেন, জনগণ নিরাপত্তা, সুশাসন ও ইনসাফ চায়। জুলাই বিপ্লবের পর রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তার অনেকগুলো এখনো অসম্পূর্ণ। রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে কাঠামোগত সংস্কার সময়ের দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সংস্কার নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
বিডিইয়র্ক ডেস্ক, ঢাকা।