বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোটগ্রহণ।
তিন স্তরের নিরাপত্তা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরও ১৬ হাজার কেন্দ্রকে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নজরদারি থাকবে। নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। এর মধ্যে পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রতিটি কেন্দ্রে স্ট্যাটিক ফোর্সের পাশাপাশি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে ২ হাজারের বেশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন। আইন প্রতিপালনে সারাদেশে এক হাজারের বেশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ড্রোন (ইউএভি), বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ও ব্যাপক সিসিটিভি নজরদারি ব্যবহার করা হচ্ছে। ইসির তথ্য অনুযায়ী, ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত প্রযুক্তি সহায়তা রাখা হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে (ইএমএস) প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর তথ্য আপলোড করা হবে। যাচাইয়ের পর তা কমিশনের ড্যাশবোর্ডে প্রদর্শিত হবে। ভোট ও ফলাফল প্রক্রিয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দুটি ব্যালট একসঙ্গে গণনা করা হবে। কেন্দ্র পর্যায়ে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণার পর তা রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে কমিশনে পাঠানো হবে। অধিকাংশ আসনের ফলাফল মধ্যরাতের মধ্যেই পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছে ইসি।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। যদিও নির্বাচনকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতার কিছু ঘটনা ঘটেছে, তবু সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নির্বাচনের টুকিটাকি ৩০০ আসনের মধ্যে শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় ২৯৯টি আসনে ভোট হচ্ছে। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। দেশজুড়ে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় ৮ লাখ নির্বাচনী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক মাঠে রয়েছেন। পোস্টাল ভোট ব্যবস্থায় প্রবাসী ও দেশের অভ্যন্তরের মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটার ইতোমধ্যে ভোট প্রদান করেছেন বলে ইসি জানিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রত্যাশা, ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে কেন্দ্রে এসে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন এবং দেশ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সাক্ষী হবে।
বিডিইয়র্ক ডেস্ক, ঢাকা।